[ad_1]
বাংলাদেশের আধুনিক সংবাদসেবার ইতিহাসে অনেক প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের জানাজা সম্পন্ন হয়।
এদিন বিকাল ৫টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হবেন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
জানাজার আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশের বক্তব্য পড়ে শোনান প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদুল কবির।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদকের বক্তব্য পড়ে শোনান প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদুল কবির।
প্রয়াতের শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্বদীপ দাশ বলেন, “তার রেখে যাওয়া আদর্শ এবং কাজ এগিয়ে নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি নির্ভীক, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করতেন।
“আমাদের তিনি শিখিয়েছেন কঠিন প্রশ্ন করতে। চাপের মুখে মাথা নত না করতে। সত্য যতই অস্বস্তিকর হোক, মানুষের সামনে তা তুলে ধরতে।”
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, “তার এই আপসহীন সাংবাদিকতার কারণে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ক্ষমতাসীন এবং দুর্বৃত্তদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে।
“মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। প্রাপ্য বৈধ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিশোধস্পৃহা কিংবা প্রতিহিংসার কাছে তিনি নিজের সততা ও আদর্শ বিকিয়ে দেননি।”
জানাজার আগে কথা বলেন প্রয়াতের ভাতিজা তারাফ খালিদী।
তিনি বলেন, “আমার বাবা ২০১৯ সালে মারা যাওয়ার পর আমার চাচ্চু আমাদের বাবার মতো আগলে রেখেছেন। আমার স্কুল, কলেজে আমার চাচ্চুই ছিলেন আমার অভিভাবক। আমাদের জীবনে তার অবদানের কথা এই অল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না।”
এরপর প্রয়াতের ছেলে, বাংলাদেশ নিউজ ২৪ আওয়ার্স লিমিটেডের পরিচালক রাদ শারার খালিদীর বক্তব্য পড়ে শোনান তারাফ খালিদী।
রাদ শারার খালিদী বলেন, “পেশাগত জীবনেও আব্বুর কিছু আদর্শ ছিল, যেগুলোর সঙ্গে তিনি কখনো আপস করতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন সৎ, নির্ভীক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায়। তার কাছে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা ছিল না; এটি ছিল একটি দায়িত্ব এবং বিশ্বাসের জায়গা।
“এই বিশ্বাসের কারণে তাকে জীবনে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। এখানে উপস্থিত অনেকেই সেই অস্থির এবং কঠিন সময়গুলোতে তার পাশে ছিলেন। আমাদের পরিবার আপনাদের সেই ভালোবাসা, সাহস এবং সমর্থন কোনোদিন ভুলবে না।”
এর আগে দুপুর আড়াইটা থেকে সেখানে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সাংবাদিক খালিদীকে শেষ বিদায় জানান তার বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের পথিকৃৎ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তরফে শ্রদ্ধা জানান তার সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম।
ভারতীয় হাই কমিশনের তরফে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রথম সচিব (রাজনৈতিক, প্রেস ও তথ্য বিভাগ) গোকুল বিমল কালা।
রাজনীতিকদের মধ্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সময়ের আলোর উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে শেষ বিদায় জানান বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক রুবিনা খান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সাদেকা হালিম।
স্পেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত শাহেদ আখতার, সাবেক সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান চৌধুরী (মঞ্জু), সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব আমিনুল ইসলামও যোগ দেন শ্রদ্ধার আয়োজনে।
তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান শেষ বিদায় জানান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদককে।
এসেছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, এমআরডিআইয়ের হাসিবুর রহমান মুকুর, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মশহুরুল আমিন মিলন এবং মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও সিইও শামসুর রহমান মোমেন, চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, প্রয়াতের সাবেক সহকর্মী, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন ও নির্বাহী সম্পাদক নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল হক বাবু, টাইমস অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, নিউএজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়েজ আহাম্মদ শ্রদ্ধা জানান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদককে।
শ্রদ্ধা জানান গীতিকবি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ, কলাম লেখক চিররঞ্জন সরকার ও সালেক খোকন।
এসেছিলেন অভিনেতা তারিক আনাম খান, অভিনেত্রী নিমা রহমান এবং বিটিভির সাবেক উপ-মহাপরিচালক খ ম হারূনও, বটতলার নাট্য নির্দেশন মোহাম্মদ আলী হায়দার।
শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন এক সময়ে তৌফিক খালিদীর নেতৃত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রাক্তনদের সংগঠন ইডাসের নির্বাহী কমিটির সদস্য মৃত্যুঞ্জয় দাশ।
ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ওকাব) সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু এবং ওকাবের সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াতের সাবেক সহকর্মী জুলহাস আলম রিপন শ্রদ্ধা জানান তৌফিক খালিদীর প্রতি।
সম্পাদক খালিদীর শেষযাত্রায় এসেছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুকান্ত গুপ্ত অলোক, বিবিসির সাংবাদিক কাদির কল্লোল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহরিয়ার করিম, আশরাফ কায়সার, জুলহাজ নুর, মহাকাশ মিলন, আজিজুল পারভেজ, সিরাজুল ইসলাম আবেদও।
শ্রদ্ধা জানাতে আসেন রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ সাহেদুল আলম এবং আবুল খায়ের গ্রুপের জনসংযোগ প্রধান রাফে সাদনান আদেল।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাবেক কর্মীদের মধ্য গাজী নাসিরউদ্দীন আহমেদ, মুনীরুল ইসলাম, নঈম তারিক, প্রকাশ বিশ্বাস, সঞ্জয় দে, সোহেল পারভেজ, প্রদীপ চৌধুরী, জুলহাস রিপন, হুমায়ুন হাশিম, রাশেদ আহসান, ইকবাল শাহরিয়ার, দেবাশীষ দেব, সনৎ বাবলা, মাসুদ পারভেজ, আহমেদ মুনীরুদ্দিন তপু, রাশেদ রেজা ডিকেন, রুবি আহমেদ, রিয়াজুল বাশার, ইমরান হোসেন ইমন, নুরুল ইসলাম হাসিব, ওসাম উল সুফিয়ান তালুকদার, রোহান জিয়াদ, আজিজ হাসান, হোসাইন আহমেদ, শায়লা রুখসানা দিনা, কাজী শাহরিন হক তিন্নী,মহিউদ্দিন ফারুক, মিন্টু চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ, সুলাইমান নিলয়, ওয়াসেক বিল্লাহ সৌধ, আহমেদ মুনীরুদ্দিন তপু, মাহবুবা ডিনা, জিএম মোস্তাফিজুল আলম, কামাল হোসেন তালুকদার, পিয়াস তালুকদার, তাবারুল হক, সাজিয়া আফরিন, মাহমুদ জামান অভি, কাজী নাফিয়া রহমান, আফরিন মীম, রুবাইদ ইফতেখার মাহবুব, শামিমা নাসরিন লাকি, কাজী শাহরীন হক তিন্নি, গোলাম মুজতবা ধ্রুব, আল আমীন দেওয়ান, পাভেল রহমান, মকফুল হোসেন সাদ, সামিন সাবাবা, আশিক হোসেন, খান এ মামুন, এহসান আলীম অভি।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার কফিন গ্রহণ করেন ভাতিজা তারাফ তাজিজ খালিদী ও ভাগনি-জামাই আকিফ আহমেদ। এসময় সহকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এরপর কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।
এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখেন।
বাংলাদেশের সংবাদ সেবাকে ডিজিটাল দুনিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার পুরোধা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বেই দুই দশক আগে রচিত হয়েছিল এক ইতিহাস।
শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে। অন্যান্য বার্তা সংস্থার মত ‘বিডিনিউজ’ তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য খবর সরবরাহ করত। দেশের অন্য সংবাদ সংস্থাগুলো টেলিপ্রিন্টারে খবর সরবরাহ করলেও বিডিনিউজ এ কাজটি শুরু করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
২০০৬ সালে বার্তা সংস্থাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বদলের পর এর খোল-নলচে বদলে যায়। ওই বছর জুলাই মাস সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়।
২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার পথচলা; বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদ যুগের সূচনা তখনই।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় নাম লেখান ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতোকত্তোর শেষ করে তিনি যোগ দেন সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায়।
তিন দশকের বর্ণাঢ্য পেশাজীবনে তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংবাদিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
[ad_2]
Source link