[ad_1]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টে পুকুর পাড়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পায়ের ছাপ দেখার স্মৃতি তার খুব মনে পড়ে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ছেলেবেলায় সুন্দরবন ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করেন।
একজন শিশুর প্রশ্ন ছিল, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার শৈশবের সবচেয়ে মজার বা প্রিয় স্মৃতি কোনটি, যা আপনার আজও মনে পড়ে?”
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “শৈশবের মজার স্মৃতি বলতে গেলে…ধরো আমার বাবা তো খুব ব্যস্ত থাকতেন। আমরা, আমি এবং আমার ছোট ভাই খুব যে ওনাদের সাথে বাইরে বের হতে পারতাম, তা না…আমরা আমাদের স্কুলে থাকতাম, স্কুল নিয়ে স্কুল হোমওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম।
“তবে একবার আমার আব্বা আমার আম্মাকে, আমাকে এবং আমার ছোট ভাইকে আমাদের তিনজনকে নিয়ে উনি বাংলাদেশের সুন্দরবনে গিয়েছিলেন। আমরা তিনদিন ওখানে গিয়েছিলাম বেড়াতে। ওই স্মৃতিটা আমার খুব মনে পড়ে। সুন্দরবনে।”
তারেক রহমান বলেন, “ওখানে আমরা একবার নামলাম হিরণ পয়েন্ট, একটা জায়গা আছে। আইল্যান্ডের মতো, ছোট দ্বীপের মতো। ওখানে নামলাম। ওখানে একটা পুকুর ছিল… পুকুরটার পাড়ে যখন আমরা গেলাম তখন ওখানকার স্থানীয়রা যারা ছিল, তারা একজন দেখালো পুকুরটার পাড়ে আগের দিন রাত্রে বেলায় বাঘ এসছিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার পানি খেতে এসেছিল।
“হ্যাঁ, ওই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের…পুকুর পাড়ে কাদা কাদা তো… রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একদম ফ্রেশ থাবাটা, ছাপটা ওখানে ছিল…তো ওইটা স্মৃতিটা এখনো মনে পড়ে।”
আরেক শিশুর প্রশ্ন ছিল, “আপনি যখন আমাদের মতো ছোট ছিলেন তখন বড় হয়ে কি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং কীভাবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছালেন?”
জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, “সত্যি কথা বলব, আসলে তখন কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। তোমার মতো যখন ছোট ছিলাম তখন শুধু ভাবতাম যে, বড় হয়ে সব খেলনাগুলো কিনে নেব আমি, যখন বড় হব তখন সব খেলনাগুলা কিনে নেব…এরকমই ভাবতাম আমি।”
সকাল ১০টায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর একটি পর্ব ছিল শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোপর্ব। এ পর্বে অংশ নিতে মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান।
শিশুদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রশ্ন: আমাদের দেশের সব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে আপনার সরকার ঠিক কী কী পরিকল্পনা করছে?
প্রধানমন্ত্রী: আমরা, আমি মনে করি যে, তোমরা যত সুন্দরভাবে যত কনফিডেন্টলি বড় হবে, বাংলাদেশটা তত একটা কনফিডেন্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। তোমরা যেরকম লেখাপড়া করবে…শুধু লেখাপড়া করলে হবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি তুমি যেরকম আজকে গান করেছো বোধহয়…তোমার যেরকম, এ কোয়ালিটিটা আছে। তোমাদের মতো এরকম অনেক শিশু আছে বাংলাদেশে যার বিভিন্ন রকম কোয়ালিটি আছে…কেউ গান ভালো করে, কেউ মিউজিক করতে পারে ভালো, কেউ নাচ করতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ কোরআন কেরাত প্রতিযোগিতায় ভালো, কেউ ভালো স্পোর্টসে। প্রত্যেককে যতটুকু সম্ভব সুযোগটা করে দেওয়া।
সো দ্যাট, তুমি যখন যত বড় হতে থাকবে তুমি একজন কনফিডেন্ট মানুষ হিসেবে বড় হও। তুমি যাতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বড় হতে পারো, শুধু লেখাপড়া না, লেখাপড়ার পাশাপাশি মানুষ হিসেবে তোমার মধ্যে আর যেসব কোয়ালিটি আছে, সেগুলো যাতে তুমি ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারো, কোয়ালিটিগুলো যাতে ভালোভাবে প্র্যাকটিস করতে পারো, ভালো করে সেই সুযোগটা করে দেওয়া।
প্রশ্ন: আমরা আজকাল ইন্টারনেটে অনেক সময় কাটাই। পড়াশোনা ও বিনোদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কীভাবে করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
প্রধানমন্ত্রী: প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারটা তোমার প্রয়োজনের জন্য যেটা প্রয়োজন তোমার লেখাপড়ার জন্য হোক, অথবা তুমি কোনো বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করছো, সেক্ষেত্রে বিজ্ঞান মেলার ওই বিষয়ের ব্যাপারে হোক অথবা তুমি কোনো স্পোর্টস সম্পর্কে জানতে চাচ্ছো সেটার ব্যাপারে হোক অর্থাৎ এইরকম ব্যাপার যেগুলো থাকবে সেখানে তুমি প্রযুক্তি অবশ্যই ব্যবহার করতে পারো।
কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা প্রায়ই দেখি ইদানিং যে, সেটি ছোট হোক, বড় হোক অনেকেই আমরা অনেক সময় নিয়ে নিজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে আমরা সোশাল মিডিয়াতে অনেক সময় ব্যয় করি। আমি মনে করি এটা বোধহয় ঠিক না। ঠিক আছে সোশাল মিডিয়াতে আধা ঘন্টার জন্য তুমি একবার ব্রাউজ করলে, দেখবে কে কি বলল। বাট সোশাল মিডিয়া হোক বা এই বিষয়টাতে হোক এত লম্বা সময় না থেকে বরঞ্চ তোমার জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতে টেকনোলজি যেই কাজটা তোমাকে হেল্প করবে…পড়ালেখা হোক বা অন্য যে বিষয় হেল্প করবে, সেগুলোতে মোর টাইম স্পেন্ড করা উচিত।
শিশুদের প্রশ্নের ধরণ দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার কাছে মনে হয় প্রশ্নগুলো বড়রা শিখিয়ে দিয়েছে। তোমাদের নিজেদের কিছু থাকলে জিজ্ঞেস করো? যেটা মনের মধ্যে আছে সেটা জিজ্ঞেস করো?”
এ সময়ে একজন শিশু জানতে চান, প্রধানমন্ত্রী কোন স্কুলে পড়ালেখা করেছেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দুইটা স্কুলে পড়ালেখা করেছি। একটা শাহীন স্কুলে, ল্যাবরেটরি স্কুলেও ছিলাম।”
এরপর অন্য শিশুরাও সরকারপ্রধানের কাছে নানা বিষয়ে জানতে চায়।
প্রশ্ন: আমাদের উদ্দেশে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি কি?
প্রধানমন্ত্রী: তোমরা ভবিষ্যতে একজন ‘কনফিডেন্ট’ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠো, যেই মানুষটা বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে ‘হেল্প’ করতে পারবে। তুমি বুঝতে পেরে আমি কি বলেছি? ‘ওকে গুড’।
প্রশ্ন: খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী শিশুদের জন্য প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ বা ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির কোনো পরিকল্পনা আছে কী?
প্রধানমন্ত্রী: হ্যাঁ, আমাদের পরিকল্পনা আছে। স্টেডিয়াম ধর একটু ‘কস্টলি’ ব্যাপার। আমাদের মতো দেশের জন্য সব জায়গায় স্টেডিয়াম করাটা তো ‘পসিবল’ না। তবে আমরা ‘ওপেন’ মাঠ প্রত্যেকটা ইউনিয়নে বা উপজেলায় আমরা চেষ্টা করছি, বাচ্চারা যাতে খেলতে পারে, তার জন্য একটা ‘ওপেন স্পেস’ তৈরি করার আমরা চেষ্টা করছি। যেখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করতে পারবে অথবা যেখানে ‘গার্জিয়ানরা’ বিকেল বেলায় হাঁটাহাঁটি করতে পারবে, বাচ্চারা খেলতে পারবে অর্থাৎ একটা ‘ওপেন স্পেস’, যেখানে সবাই সমাজের কমবেশি সবাই যেখানে গিয়ে একটা সুন্দর সময় কাটাতে পারবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছে আছে কী আপনার?
প্রধানমন্ত্রী: অবশ্যই আছে। তুমি একটু আগে শুনেছ, আমাদের ডাক্তার জাহিদ (এ জেড এম জাহিদ হোসেন) সাহেব, উনি বলেছিলেন তোমাদের মতো এই ছোট বাচ্চারা অনেক আগে বিভিন্ন ‘আর্ট কম্পিটিশনে’ গিয়েছিল এবং তারা খুব ভালো ‘রেজাল্ট’ নিয়ে ফেরত এসেছিল। কিছুদিন আগেও আমরা দেখেছি কোরআন কেরাত প্রতিযোগিতায় আমাদের বাচ্চারা সৌদি আরব থেকে অনেক পুরস্কার নিয়ে এসেছে। তোমরা দেখেছো মেয়েদের ফুটবল ছিল কয়েকদিন আগে। সেই সার্ক ফুটবলে মেয়েরা ভালো করেছে, ছেলেরা ভালো করছে ক্রিকেটে। কাজেই আমরা চেষ্টা করব আরও কী করলে বাচ্চারা উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে, সেই ব্যবস্থাগুলো আমরা নিচ্ছি। আমরা চাই, তোমরা শুধু স্পোর্টসে না, স্পোর্টস বলো, বিজ্ঞান মেলা বলো, ‘কুইজ কম্পিটিশন’ বলো, ‘ম্যাথস কম্পিটিশন’ বলো, তোমাদের মতন বাচ্চারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে যাবে তাদেরকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে, যাতে তারা একটা সুন্দর ভালো ‘রেজাল্ট’ নিয়ে আসতে পারে।
প্রশ্ন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি যখন বাসা থেকে বের হই, দেখি রাস্তার ফুটপাতের মধ্যে পথশিশুরা বসে আছে…তারা অনেকেই পড়ালেখা করতে পারে না, তাদের সেই টাকা পয়সা নেই অথবা গ্রামের গরিব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। এ সকল সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকারের কোনো বিশেষ পদক্ষেপ আছে কী?
প্রধানমন্ত্রী: তুমি যেটা বলেছ, খুবই ‘আনফরচুনেট’। আমাদের অনেক লক্ষ লক্ষ শিশু, তুমি যেরকম বললা, তারা ন্যূনতম শিক্ষা থেকে বা ন্যূনতম বাচ্চাদের যে সুবিধা, সেগুলো থেকে তারা বঞ্চিত। তো আমরা চেষ্টা করছি…তার সময় লাগবে। আমরা চেষ্টা করছি আস্তে আস্তে এই বাচ্চাগুলোর কাছেও যাতে আমরা শিক্ষা পৌঁছে দিতে পারি। তুমি যেরকম সুবিধা পাচ্ছে, বিভিন্ন ‘আর্ট কালচার এডুকেশন’ সবকিছুতে। এ বাচ্চাগুলোকেও যাতে আমরা সেই ফ্যাসিলিটিগুলো পৌঁছে দিতে পারি। আমরা চেষ্টা করছি হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু ইনশল্লাহ আমরা পারব।
প্রশ্ন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আছেন। এ অবস্থান থেকে কাজ করার অনুভূতি কেমন? এটা কী খুব কঠিন?
প্রধানমন্ত্রী: এই যে তোমরা এতজন মিলে প্রশ্ন করছো না…ডেঞ্জারাস ব্যাপার এখান থেকে কাজ করা। খুব কঠিন।
প্রশ্ন: আমাদের যে বন্ধুরা শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে তারা যেন সবার মতো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য কোনো পরিকল্পনা আছে কী আপনার?
প্রধানমন্ত্রী: এরকম অনেক পরিকল্পনা আছে। আমাদের অনেক শিশুরা আছে, অনেক বাচ্চারা আছে যারা মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। অনেক দেশ আছে এই ধরনের বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন রকম সুবিধা আছে। আমাদের এই সুবিধা আছে ‘বাট ভেরি লিমিটেড’। আমরা এটাকে বড় করতে চাচ্ছি, ‘এক্সপ্যান্ড’ করতে চাচ্ছি। তাদের জন্য বিভিন্ন স্কুল তৈরি করা, তাদের জন্য অন্যান্য যেসব সুবিধা আছে সেগুলো ধীরে ধীরে…‘একটু এক্সপেন্সিভ’। কারণ এই ধরনের বাচ্চা যারা আছে তাদের যেরকম ইনস্ট্রাকচার বা টিচার যাদের প্রয়োজন হয় সেরকম যথেষ্ট শিক্ষক বা অবকাঠামোও নেই আমাদের। প্রশিক্ষকও নেই আমাদের। কাজেই ওই শিক্ষকদেরকে তৈরি করা, প্রশিক্ষকদের তৈরি করা। তারপরে সেই ‘ফ্যাসিলিটিগুলো’ তৈরি করা, এটা একটু সময় লাগবে। কিন্তু আমরা হাত দিয়েছি কাজে। আস্তে আস্তে আমরা এই এগোতে থাকবো ইনশাল্লাহ।
প্রশ্ন: দেশের জন্য কল্যাণকর ও বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কী বড়দের পাশাপাশি ছোটদের মতামতও জানতে চান?
প্রধানমন্ত্রী: খুব কঠিক প্রশ্ন। আমার আশেপাশে ছোট তেমন নাই। আমার একটা মেয়ে আছে…,ও (জাইমা রহমান) বড় হয়ে গিয়েছে এখন। তবে মাঝে মাঝে ওর সাথে আমি আলাপ করি। ও যেহেতু বড় হলেও আমার থেকে তো অনেক ছোট। তোমাদের থেকে হয়তো একটু বড়। কাজেই তোমাদের সাথে হয়তো ওর ‘গ্যাপটা’ তুলনামূলক কম। আমার সাথে তোমাদের ‘গ্যাপ’ যেহেতু বেশি। সেজন্য তোমাদের ‘মাইন্ডটা’ ও (জাইমা রহমান) ‘রিড’ করতে পারে বা ওর সমান যারা আছে বা ওর থেকে যারা ছোট আছে তাদের ‘মাইন্ডটা রিড’ করতে পারে। কাজেই কিছু কিছু ব্যাপারে যেখানে ধরো, তোমাদের মতো বাচ্চাদের কোনো বিষয় হয়তো থাকতে পারে বা আছে সেগুলো বিষয় অনেক সময় হয়তো আমি ওর সাথে আলাপ করি। তখন আমাকে ও একটা ‘পিকচার’ দিতে পারে যেটাতে ‘ডিসিশন’ নিতে সুবিধা হয়।
প্রশ্ন: আজকের এই বিশেষ দিনে আমাদের জন্য আপনি কী কোনো বিশেষ কথা বলবেন?
প্রধানমন্ত্রী: বিশেষ কথাটা হচ্ছে যে তোমরা হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এই বাংলাদেশটাকে তুমি যখন টিভিতে বাইরের কোনো সুন্দর একটা দেশ দেখো, নিশ্চয়ই তুমি চিন্তা করো যে বাংলাদেশটা যদি এরকম হতো তাই না? মাঝে মাঝে তুমি চিন্তা করো না। অন্য কোনো দেশের কোনো ছবি দেখলে বা ভিডিও দেখলে চিন্তা করো, যে আচ্ছা আমার দেশটাও যদি ওরকম ওই দেশের মত হতো। আমার দেশটা যদি ওই দেশের মতো হতো অবশ্যই ওই দেশের মতো করা সম্ভব। কিন্তু সেটা যদি তোমরা সকলে মিলে ‘ডিসাইড’ করো যে হ্যাঁ, আমাদের বাংলাদেশটাকে আমরা ওরকম সুন্দর করে গড়ে তুলবো, তাহলে ‘পসিবল’ সেটা। সেজন্যই তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা হচ্ছে যে, তোমরা সকলে নিজেদেরকে গড়ে তুলো। তোমরা যদি নিজেদেরকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারো তাহলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবো।
তারপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শেষ পরীক্ষা? এখন অনলাইন পরীক্ষা শুরু হবে। বেশ কঠিন পরীক্ষা হচ্ছে। ওকে।”
প্রশ্ন: জাইমা আপু কোথায় আছেন?
প্রধানমন্ত্রী : জাইমা আপু বাইরে আছেন। সেজন্য আজকে এখানে আসতে পারেনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী কাছে বসে থাকা এ শিশু বললো, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার নাম জাইমা।”
জবাবে তিনি বলেন, “তাই নাকি। এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ নাম বলার জন্য।”
এ সময়ে উপস্থিত শিশুরা করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
এরপর অনলাইনে ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা, সিলেট প্রভৃতি এলাকার শিশুদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
[ad_2]
Source link