[ad_1]
নোংরা রান্নাঘর, রান্না করা খাবার ঢেকে না রাখা, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য উপকরণ ব্যবহার না করাসহ নানা অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
সংস্থাটির নির্বাহী হাকিম অনুপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন বলে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে হোটেলটির রান্নাঘর অত্যন্ত নোংরা ও অপরিষ্কার অবস্থায় পান নির্বাহী হাকিম। হোটেলের মেঝে নোংরা-স্যাঁতস্যাঁতে এবং ঢাকনাহীন অবস্থায় ময়লার পাত্র দেখা যায়। একইসঙ্গে কোন প্রকার লেবেলবিহীন ঘি সংরক্ষণ এবং ব্যবহার করতে দেখা যায়। খাদ্য কর্মীদেরও কোনো প্রকার স্বাস্থ্য উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।
এছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষ পানি পরীক্ষার সনদ ও পেস্ট কন্ট্রোল প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। এসব অপরাধে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য আইনে তাৎক্ষণিক হোটেলটিকে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড করে আদায় করা হয়।
সেপ্টেম্বরে ১ কোটি জরিমানা, ৪৪ মামলা
এদিকে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন করায় গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৩০৭টি খাদ্যস্থাপনা নজরদারি করা হয়েছে এবং রপ্তানিযোগ্য তিনটি পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, সেপ্টেম্বরে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রায় প্রতিষ্ঠানে যেসব অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে, তা হল- বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ, পেস্ট কন্ট্রোল প্রমাণপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া।
এই সময়ে ঢাকা মহানগর ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ২৮টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি করা, পোড়াতেল ব্যবহার করা, অনুমোদিত রাসায়নিক রঙ ব্যবহার করা, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজলের ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন করার মত অপরাধের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩০টি মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মহানগরীর নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নজরদারি কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে ভাষ্য সংস্থাটির।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক টিভিসি প্রচারের পাশাপাশি বিটিভিতে স্ক্রলবার্তাও প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করার কথাও বলেছে সংস্থাটি।
[ad_2]
Source link