[ad_1]
কানাডার মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে তিন বিভাগে সেরার পুরস্কার জিতেছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ সিনেমাটি।
গেল ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে এ উৎসব শেষ হয়েছে রোববার। এক বিজ্ঞপ্তিতে পরিচালক জানিয়েছেন, উৎসবের ১২তম আসরের সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন নাজিফা তুষি, সেরা চিত্রগ্রাহক হয়েছেন জোয়াহের মুসাভভির ও সেরা সংগীত রাশীদ শরীফ শোয়েব।
পুরস্কার প্রাপ্তির খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পরিচালক সুমন বলেন, "বিশ্বমানের দারুণ সব সিনেমার সঙ্গে লড়াই করে 'রইদ' যে পুরস্কার অর্জন করেছে, তা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। সিনেমাটি আসার পর থেকেই অভিনেত্রী নাজিফা তুষির অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল এবং সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।
“আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই স্বীকৃতি সত্যি দারুণ অনুভূতির। এর পাশাপাশি সিনেমার চিত্রগ্রহণ ও আবহসংগীত নিয়েও বেশ ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছিল। এই দুই বিভাগের শিল্পীরাও পুরস্কৃত হওয়ায় আমাদের আনন্দের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে।"
'রইদ' সিনেমার গল্প সাদু নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে, যার স্ত্রী মানসিক সমস্যায় জর্জরিত থাকেন। স্ত্রীর পাগলামি যখন সাদুর কাছে অসহ্য ঠেকে, তখন তাকে দূরে কোনো এক জেলায় ফেলে আসেন তিনি।
যে কাজটি একাধিকবার করেছেন সাদু; কিন্তু ঠিকানা চিনে মেয়েটি বারবার স্বামীর ঘরে ঠিক ফিরে আসে।
কখনো তার ফিরতে কখনো ছয় মাস লেগে যায়, কখনো এক বছর পার হয়, কিন্তু ফিরে আসেন ঠিকই।
সংসারে ফিরে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েটি নিখোঁজ থাকা নিয়ে কিছু মনে থাকে না, তাই তারা আবার সংসার করেন।
সাধুর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই এই চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় ছিলেন তুষি।
সেরা অভিনেত্রী হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তুষি বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য সবসময় ভালো কাজ করা, পুরষ্কার পাওয়া নয়। পর্দায় চরিত্রটি সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলাই আমার প্রধান চেষ্টা থাকে। তবে সেই কাজের জন্য যদি কোনো স্বীকৃতি মেলে, তা নিশ্চয়ই আনন্দদায়ক। এই অর্জন একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ববোধ আরও অনেক বাড়িয়ে দিল। কাজের এই সুন্দর ধারা যেন সামনেও বজায় থাকে, সেই প্রার্থনাই করি।"
পুরস্কার পাওয়ায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে চিত্রগ্রাহক জোয়াহের মুসাভভির জ্যোতি বলেন, "আমার কাছে পুরস্কার কেবল কোনো সাধারণ স্বীকৃতি নয়। বরং পরম ভালোবাসায় মন দিয়ে করা কাজটি অন্য কেউ দেখেছেন এবং গভীরভাবে অনুভব করেছেন—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। একটি স্বীকৃতি মানেই একই সাথে নতুন এক দায়িত্ব তৈরি হওয়া। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, সামনে আরও ভালো কাজ করতে হবে, কাজের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।"
সিনেমায় সাদু চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ সহ অনেকে।
সাদু ও ভারসাম্যহীন মেয়েটির এই গল্প মা সেলিনা বানু মনির কাছ থেকে শুনছিলেন সুমন, শোনা সেই গল্পটাই পর্দায় 'রইদ' সিনেমায় তুলে ধরেছেন তিনি।
সিনেমাটির গল্প লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন ও সেলিনা বানু মনি। চিত্রনাট্য লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ এবং সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।
সিনেমাটির দৃশ্যধারণ হয়েছে সিলেটের মেঘালয় সীমান্তের কাছের একটি জায়গায়। গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পায় সিনেমাটি। মুক্তির পর থেকেই সিনেমার অভিনয়, ভিজুয়াল নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ভিয়েতনামের 'দা নাং এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব' এর সমালোচক বিভাগে সেরা এশিয়ান চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছিল সিনেমাটি।
এছাড়াও বাংলাদেশ অস্কার কমিটি থেকে আসন্ন ৯৯তম অস্কারে ‘আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে ‘রইদ’ সিনেমাটি মনোনীত করেছে।
[embed]https://www.youtube.com/watch?v=iKevcDEC9yQ[/embed]
[ad_2]
Source link