[ad_1]
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ও উন্নত চিপের তীব্র সংকটের মধ্যে নিজস্ব চিপ আর্কিটেকচার ও অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভর করে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজ উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে।
‘মেইট ৯০’ নামের স্মার্টফোন সিরিজ উন্মোচনের আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুয়াওয়ের ‘কনজিউমার বিজনেস’ প্রধান রিচার্ড ইউ বলেছেন, কোম্পানিটি এখনও উন্নত চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়ছে।
“চীনে উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের উৎপাদন সক্ষমতা এখনও সীমিত এবং হুয়াওয়ের অ্যাসেন্ড এআই চিপগুলোও একই উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
“স্মার্টফোনের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে হ্যান্ডসেটের চালানের পরিমাণ বা শিপমেন্ট কিছুটা কমে গেছে। স্মার্টফোন চিপের সরবরাহ এখনও সংকটাপন্ন।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আধুনিক চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির নাগাল না পেলেও হুয়াওয়ে কীভাবে তাদের প্রসেসরের পারফরম্যান্স বাড়াতে বিকল্প উপায় বের করে নিজেদের স্মার্টফোনের অগ্রগতি ধরে রাখতে পারে, এই উন্মোচন তারই পরীক্ষা।
‘মেইট ৯০’ সিরিজটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাজারে আসা ‘মেইট ৮০’ লাইনআপের উত্তরসূরি। ‘মেইট ৯০ প্রো ম্যাক্স’-এর মতো প্রিমিয়াম মডেলগুলোতে ব্যবহৃত হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব ‘কিরিন ৯০৫০ প্রো’ প্রসেসর।
এ চিপ এমন এক ‘সিস্টেম-অন-চিপ’, যা ‘লজিকফোল্ডিং’ নামের প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হয়েছে।
প্রচলিত ফ্ল্যাট লেআউটের পরিবর্তে এই পদ্ধতিতে চিপের ভেতরের তারের বিন্যাসকে ত্রিমাত্রিক আকারে পুনর্বিন্যাস করা হয়। ফলে অনেক ঘনত্বে দ্রুত প্রসেসিং করা সম্ভব হলেও এটা তৈরিতে তুলনামূলক বেশি ওয়েফার প্রয়োজন।
এর আগে, গেল মাসে সাংহাইতে এক মিডিয়া ইভেন্টে হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান এরিক জু বলেছিলেন, উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কোম্পানির ‘অ্যাসেন্ড ৯৫০’ এআই চিপের দেশীয় চাহিদা মেইটানো সম্ভব হচ্ছে না।
রিচার্ড ইউ বলেছেন, চীনের উন্নত চিপ নির্মাণ খাত এখনও ‘ডিপ আল্ট্রাভায়োলেট’ বা ডিইউভি লিথোগ্রাফি মেশিনের ওপর নির্ভর করছে। ‘এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট’ বা ইইউভি প্রযুক্তি দামি হলেও চীনা নির্মাতারা এখনও সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করে যাচ্ছেন।
হুয়াওয়ে তাদের ভবিষ্যতের বিভিন্ন স্মার্টফোনে ‘লজিকফোল্ডিং’ প্রযুক্তিতে তৈরি আরও চিপ ব্যবহার করবে বলে উল্লেখ করেছেন রিচার্ড ইউ।
‘কিরিন ৯০৫০ প্রো’ চিপটি কারা তৈরি করেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি হুয়াওয়ে।
চীনের শীর্ষ লজিক ফাউন্ড্রি ‘সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন’ বা এসএমআইসি হুয়াওয়ের মেইট সিরিজ ও অ্যাসেন্ড এআই প্রসেসরে ব্যবহৃত এসব কিরিন চিপ তৈরি করছে বলে ধারণা করা হয়।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এসএমআইসি।
হুয়াওয়ের সর্বশেষ ফোনগুলো তাদের নিজস্ব ও অ্যান্ড্রয়েড-মুক্ত ‘হারমনিওএস ৭’ অপারেটিং সিস্টেমে চলে। হুয়াওয়ের দাবি, এ অপারেটিং সিস্টেমে সাড়ে চার লাখেরও বেশি অ্যাপ ও সেবা সমর্থন করে।
১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজওয়ালা ‘মেইট ৯০ প্রো ম্যাক্স’-এর দাম ৯ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান, যা এর আগের সংস্করণের একই ভ্যারিয়েন্টের দামের তুলনায় ২ হাজার ইউয়ান বেশি।
এ ছাড়া, স্ট্যান্ডার্ড ও প্রো মডেলগুলোর দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ৫ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান ও ৬ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান থেকে।
হুয়াওয়ে বলেছে, শীর্ষস্থানীয় মেইট ৯০ মডেলগুলোর সার্বিক পারফরম্যান্স আগের ফ্ল্যাগশিপ প্রজন্মের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে।
হ্যান্ডসেটের দাম বৃদ্ধি
চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলো মেমোরি ও যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ার চ্যলেঞ্জের মুখে পড়ছে, যার ফলে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে ও প্রিমিয়াম মডেলগুলোর দিকে বেশি জোর দিচ্ছে।
রিচার্ড ইউ বলেছেন, মেমোরির দাম বাড়ার কারণে প্রতিটি হ্যান্ডসেটের উৎপাদন খরচ গড়ে ২০০ ডলার বেড়েছে, যা হুয়াওয়ের মুনাফার মার্জিনের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
“আমাদেরও বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে এর গতি কিছুটা ধীর।”
‘রিসার্চ ফার্ম ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন’ বা আইডিসি’র তথ্য অনুসারে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অগাস্টের মধ্যে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্মার্টফোনের চালান সাত শতাংশ কমেছে, অথচ একই সময়ে চীনে হুয়াওয়ের ফোনের চালান বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
আইডিসি’র ডেটা অনুসারে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে চীনে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয় মূল্য গেল বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৩ শতাংশ বেড়ে ৫৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের গড় দাম ১৪.৭ শতাংশ কমে ৬২৮ ডলারে নেমেছে।
[ad_2]
Source link