[ad_1]
ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে ময়মনসিংহের এক পরিবারের ৫ জনকে পাচারের ‘অন্যতম হোতাকে’ গ্রেপ্তারের দাবি করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তারা বলছে, চক্রটি এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরজু রহমান (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরজু এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ৮৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে ভাষ্য এসআরবির।
ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। এসআরবি-৪ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “আরজু মিশরে ছিল। তাকে দীর্ঘদিন ধরেই ট্র্যাক করা হচ্ছিল, তিনি কখন দেশে আসবেন।
“৩/৪ দিন আগে দেশে ফেরা আরজু সামনের বৃহস্পতিবারেই আবার দেশ ছাড়ার কথা ছিল। এরমধ্যেই অবস্থান শনাক্ত করে সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।”
ঘটনার বিবরণে সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি বলেছে, ময়মনসিংহের এক পরিবারের দুই নারীসহ ৫ জন গত জুলাইয়ে ৮৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে শ্রীলঙ্কা নিয়ে যায় একটি চক্র।
তাদের বলা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে তাদের ভিসা হবে না। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সেখানকার দূতাবাস থেকে ভিসা নিতে হবে। এরপর সেখানে নিয়ে তাদেরকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করে চক্রটি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলছেন, ওই পরিবারের ৩ পুরুষ সদস্য পালিয়ে দেশে ফেরত চলে আসে। আর দুই নারীকে বলা হয়, সেখান থেকেও তাদের ভিসা হবে না। ইতালির ভিসার জন্য মিশরের অ্যাম্বাসিতে যেতে হবে বলে, সেখানে পাঠানোর প্রস্তুতি চলে। এরমধ্যে নারীদের একজন পালিয়ে এখনো শ্রীলঙ্কাতেই কোন একটি জায়গায় অবস্থান করছে।
তবে অন্য নারীকে মিশর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই তিনি গত ১৬ জুলাই সহায়তা চেয়ে এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকেই ওই চক্রের হোতা আরজুর সন্ধানে নামে এনএসআই।
ওই নারীকে মিশরে নিয়ে অমানবিক অত্যাচার এবং অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করা হয় তথ্য দিয়ে এসআরবি-৪ অধিনায়ক বলেন, “তিনি এতে অস্বীকৃতি জানালে আরও নির্যাতন শুরু হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হত। সেখান থেকে তিনি ভিডিও বার্তায় আমাদেরকে বিভিন্ন নির্যাতনের বর্ননা দিয়েছেন।”
তার ভাষ্য, আরজুকে গ্রেপ্তারের পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার মাধ্যমে প্রায় ৩০-৩৫ জন ভুক্তভোগী এসআরবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিদেশ থেকে পালিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
এর বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আরও প্রায় ৩০০ জন ভুক্তভোগীর যোগাযোগ হয়েছে; যাদেরকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে জনপ্রতি ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় বলেও তথ্য দেন তিনি।
গ্রেপ্তার আরজুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “তিনি প্রায় এক যুগ ধরে মানব পাচার চালিয়ে আসছিলেন। তার নিজের কোনো লাইসেন্স নেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভুয়া নাম ব্যবহার করে গ্রামের সরল লোকদের বোকা বানিয়ে বিদেশ নিয়ে বিক্রি করে দিত এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করত।”
আরজুর একটি ব্যাংক হিসাবে গত এক বছরে ১ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ টাকা লেনদেনেরও তথ্য পেয়েছে এসআরবি। হাফিজুর রহমান বলেন, “এক পরিবারের ওই ৫ জনের মধ্যে দেশে ফিরতে পারা একজন সোমবার ভাটারা থানায় মামলা করেছেন। আরজুকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
“এখনো বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী মিশরে আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে এসআরবির ধারাবাহিক অভিযানে ২০২৫-২৬ সালে এখন পর্যন্ত ২২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “আরজুর চক্রের মোট সদস্য সংখ্যাটা এখনো পাইনি। মামলার তদন্ত এবং তাকে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”
আরজু একটা এজেন্সি, এমন আরও অনেকে বাংলাদেশে আছে মন্তব্য করে এসআরবি কর্মকর্তা বলেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কারো কাছে এ বিষয়ে তথ্য থাকলে বাহিনীটিকে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
[ad_2]
Source link