[ad_1]
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে একজন ট্রান্সজেন্ডারের বিয়েকে কেন্দ্র করে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও ভুয়া পরিচয়’ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেছে।
রুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার এবং চকবাজার থানার ওসিকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুলে যেসব বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গত ১০ জুলাই ‘ট্রান্সজেন্ডার নারী’ হিসেবে পরিচিত তাসনুভা আনানের বিয়ে হয়। তিনি বৈশাখী টিভি চ্যানেলের সংবাদপাঠিকা।
সেই বিয়ে ঘিরে তাসনুভা আনানের ‘জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি’ ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ তুলে জনস্বার্থে গত ৩০ আগস্ট রিট আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
মঙ্গলবার আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান ও সহযোগিতা করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুঁই।
আদেশের পর আইনজীবী ইশরাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের দেশে হিজরা জনগোষ্ঠী স্বীকৃত হলেও ট্রান্সজেন্ডাররা হিজরা নন। তাসনুভা আনান ট্রান্সজেন্ডার দাবি করে আরেকজন ছেলেকে বিয়ে করেন। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ‘শিশির বিশ্বাস’ নামের এনআইডি দিয়ে হিন্দু ধর্মমতে এই বিয়ে হয়।
“আমরা অভিযোগগুলোর তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ চেয়েছিলাম। আদালত রুল জারি করেছেন।”
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ১০ জুলাই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে তাসনুভা আনান শিশিরকে ‘কনে’ হিসেবে উপস্থাপন করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। পরে ২৯ জুলাই দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
“তাসনুভা আনান জন্মগতভাবে পুরুষ হয়েও পরে নারী/ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অপর ব্যক্তিও জন্মগতভাবে পুরুষ ছিলেন,” রিটে দাবি করা হয় আবেদনে।
রিট আবেদনে এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বলা হয়, তাসনুভা আনানের প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া ‘শিশির বিশ্বাস’ নামের এনআইডির তথ্যের মিল নেই। মন্দির কর্তৃপক্ষকে দেওয়া পরিচয়পত্রে ব্যবহৃত নম্বরটি মূলত মো. জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির। তার এনআইডির নাম, ছবি, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন করে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে কথিত এনআইডি তৈরি করা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর দাবি, ২০১৪ সালের গেজেটের মাধ্যমে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও জন্মগতভাবে পুরুষ কারও নারী পরিচয় গ্রহণের মাধ্যমে বিয়ের আইনগত ভিত্তি নেই। এছাড়া বাংলাদেশে লিঙ্গ পরিবর্তনের পক্ষে কোনো আইন বা অধ্যাদেশ প্রণীত হয়নি।
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর বরাত দিয়েও রিট আবেদনে বলা হয়, একই লিঙ্গে জন্ম নেওয়া দুই ব্যক্তির বিয়েকে স্বীকৃতি বা নিবন্ধনের কোনো বিধান বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় নেই।
জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০২৩ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার কথা তুলে ধরা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করা, জাল এনআইডি জেনেশুনে বহন বা ব্যবহার করা এবং এ ধরনের জালিয়াতিতে সহায়তা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই আইনের ২৭ ধারায় এসব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয়।
এর আগে গত ২৪ অগাস্ট সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠিয়ে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়।
[ad_2]
Source link