[ad_1]
ধরা যাক, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রটি যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার আইনি লিজপ্রাপকের নাম ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’। সরকারের কাছ থেকে তারা কাগজে-কলমে বরাদ্দ পেলেও বাস্তবে কখনো জমির দখল পায়নি। উল্টো দীর্ঘ অর্ধশতক ধরে সেই জমি রয়েছে রাড্ডা হাসপাতালের দখলে এবং সেখানে প্রতিদিন সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের শত শত মানুষের মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে—সহজ ভাষায় পরিচালিত হচ্ছে গরিবের হাসপাতাল।
এখন প্রশ্ন হলো, আইনি বরাদ্দের বাহানায় রাড্ডার মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করতে হলে সমমনা সমিতির পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত? উত্তরটা নিশ্চয়ই কোনো সুস্থ ও সভ্য সমাজে এমন হতে পারে না যে, রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে, নিরাপত্তারক্ষীদের হাত-পা বেঁধে বুলডোজার দিয়ে একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধের ন্যূনতম চর্চা যেখানে বিদ্যমান, সেখানে অর্ধশতকের পুরনো একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন জঘন্য ও বর্বরোচিত আচরণ কখনোই কোনো বৈধ উপায়ের অংশ হতে পারে না।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রের জমি আদৌ সমমনা দোকানদার সমিতি লিজ পেয়েছে কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য ব্যক্তিগতভাবে আমার জানা নেই। এমনটা দাবি করে ওই জমি দখল করতে যাওয়া পক্ষটি প্রচার চালাচ্ছে। আমি সমমনা সমিতির দখল করতে যাওয়ার অনুকূলে কোনো যুক্তি আছে কিনা, সেটাই যাচাই করার চেষ্টা করেছি। জানতে চেয়েছি রাতের আঁধারে জোরপূর্বক জমি উদ্ধার করতে যাওয়ার কোনো সুযোগ আইনে রাখা আছে কিনা?
আইন বলছে, কোনো জমির লিজ পাওয়ার পরও যদি অন্য কোনো পক্ষ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকে, তবে লিজগ্রহীতার জন্য গায়ের জোর খাটানোর কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের প্রচলিত দেওয়ানি আইনি ব্যবস্থা অনুযায়ী, লিজপ্রাপ্ত জমির স্বত্ব উদ্ধার করতে হলে প্রথমে আইনজীবী মারফত দখলদার প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে জমি খালি না হলে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধারের মামলা দায়ের করা ছিল একটি বৈধ আইনি পথ। যেহেতু রাড্ডা সেখানে অর্ধশতক ধরে অবস্থান করছে, তাই আদালতে তামাদি আইন, ১৯০৮-এর আওতায় দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন দখলের আইনি জটিলতা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক, যা কেবল বিচারিক আদালতই নথিপত্র পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করতে পারেন। তাছাড়া, ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী, উপযুক্ত আদালতের আদেশ ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার দখলীয় ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। নতুন এই আইন অনুযায়ী জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
রাড্ডা হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে। এখন এটা প্রায় নিশ্চিত যে এই ফৌজদারি অপরাধটি ঘটানো হয়েছে দখলদার ও পুলিশের যোগসাজশে। পরের দিন ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল না হতেই রাতের আঁধারে একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। একে একে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও খবর আসে।
১৯৭৪ সালে সুইডিশ সেভ দ্য চিলড্রেনের রাড্ডা বার্নেনের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো দুর্বল প্রতিষ্ঠান নয়। দীর্ঘ দিন ধরে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ নানা কমিউনিটি স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি। বর্তমানে মিরপুর ১০-এর প্রধান কেন্দ্রের পাশাপাশি মিরপুর ১, বাউনিয়াবাদ, উত্তরা, ভাসানটেক বস্তি ও পুরান ঢাকায় এর সেবা বিস্তৃত এবং তিনটি স্থায়ী ক্লিনিকে প্যাথলজি ও হেমাটোলজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার আধুনিক সুবিধাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা এ সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত ছিলেন। প্রখ্যাত গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক টি এ চৌধুরী, প্রকৌশলী অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ও সাবেক উপদেষ্টা কাজী ফজলুর রহমানের মতো গুণীজনেরা এর ট্রাস্টি বোর্ডে ছিলেন। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন, র্যামন ম্যাগসাইসাই বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী তাহরুন্নেসা আবদুল্লাহ কোষাধ্যক্ষ এবং সরকারের সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, আবদুল করিমসহ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ এস এম কাশেম ও এ কে আজাদ এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কাজেই এই প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে যাদের মাঠে দেখা গেছে, তাদের পেছনে আরও অনেক বড় শক্তি রয়েছে—তা আলোচনায় আসতে শুরু করেছে খবরটি প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে। বিশেষ করে এসেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিকের জমি দখলের চেষ্টার নেপথ্যে যে সংগঠনটির নাম উঠে এসেছে, ২০০৬ সালে সেই সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে যখন এই সমিতির নামে জমিটির লিজের আবেদন করা হয়, সেই আবেদনের নথিপত্রেও সভাপতি হিসেবে নাম ছিল ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির। তিনি শুধু সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্যই নন, বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন। তার পারিবারিক পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য—তার বড় ভাই ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু, যিনি ২০১৫ সালে রাজশাহী কারাগারে মারা যান; আর স্বামী ছিলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা ছায়েদুর রহমান নিউটন, যিনি ২০০২ সালে নিহত হন প্রতিপক্ষের হাতে। মিষ্টির ভাই পিন্টু বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালেও একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। স্বামী নিউটনের নামেও আবার অনেক বিতর্কিত ঘটনার কথা প্রকাশ পাচ্ছে। উত্তরাধিকার সূত্রে মিষ্টি একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
রাড্ডা হাসপাতাল দখল ও তাণ্ডবের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম জড়ানোর পেছনে বেশ কিছু প্রত্যক্ষ উপাদানও কাজ করেছে। মামলার প্রধান আসামি শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. হানিফ মিয়া হলেন মিষ্টির প্রয়াত স্বামী নিউটনের তুতো ভাই। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, রাড্ডার নৈশপ্রহরী ও কর্মীদের ভাষ্য মতে, রাতারাতি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই নৃশংস অভিযানে যারা অংশ নিয়েছিল, তারা মূলত হানিফের অনুসারী। হানিফ নিজে আবার মিষ্টির অনুসারী বলে পরিচিত।
অবশ্য সংবাদমাধ্যমে দেখলাম মিষ্টি বলছেন, হানিফ এখন আর তার সঙ্গে রাজনীতি করেন না। সমিতির নথিপত্রে নিজের পুরোনো স্বাক্ষর ও সভাপতি পদের প্রমাণ থাকার পরও ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি রাড্ডা কাণ্ডের পর থেকে এই দখলে তার যুক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করছেন, রাজনৈতিক কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়ানো হচ্ছে এবং হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
সংসদ সদস্য মিষ্টি রাড্ডাকাণ্ডে জড়িত আছেন কিনা সেটি তদন্তসাপেক্ষ। মিষ্টি জড়িত না থাকলেও অর্ধশত বছরের পুরোনো এবং জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক এই প্রতিষ্ঠানটি চলমান অবস্থায় গুঁড়িয়ে দেওয়ার দায় বিএনপি সরকার এড়াতে পারবে না। ২০০৬ সালে যখন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে রাড্ডার জমিটি সমিতিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তখন বিএনপি ছিল ক্ষমতায়। সরকারের জমি সরকার যাকে ইচ্ছে বরাদ্দ দিতে পারে হয়তো। কিন্তু সরকারের সেই ক্ষমতা থাকলেও বিষয়টি প্রশ্নাতীত হয়ে যায় না। বরং তীব্রভাবেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, সেটি হলো জনকল্যাণমূলক একটি প্রতিষ্ঠান যে জমিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেই জমিটি কতিপয় দোকানদারের সমিতিকে বরাদ্দ দেওয়ার নৈতিক যুক্তি নিয়ে। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, বরাদ্দ পাওয়ার দুই দশক পর জমিটি যখন দখলের চেষ্টা করা হলো, তখনও ক্ষমতায় বিএনপি। পেছনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও অনুসারীদের ব্যবহার পুরো ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের নগ্ন উদাহরণ হিসেবেই উন্মোচিত করেছে।
তাই নাগরিক হিসেবে আমরা দাবি করতে পারি, সমমনা সমিতির বরাদ্দ বাতিল করে জমিটি রাড্ডাকে দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়া হোক। কারণ সরকার যেমন ইচ্ছে করলে সমমনা দোকানদার সমিতিকে বরাদ্দ দিতে পারে, তেমনই জনস্বার্থে সেই বরাদ্দ বাতিল করে রাড্ডাকে জমি ফিরিয়েও দিতে পারে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রটির জমি হয়তো আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে, কিন্তু এই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভাবমূর্তির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল, তা পুনরুদ্ধারের পথ সহজ নয়। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম অস্থিরতা ও প্রকাশ্য মবসন্ত্রাসের ভয়াবহতা দেখে অতিষ্ঠ দেশের সাধারণ মানুষ শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়েছে। জনগণের আশা ছিল—একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার অন্তত জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং বেপরোয়া মবসন্ত্রাসের অবসান ঘটাবে।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার আট মাস না হতেই সেই স্বস্তির বদলে চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। রাড্ডা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সংস্থাকে উচ্ছেদ করে রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তার ঠিক পরদিনই ঢাকার মানিকদীতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সংঘটিত তাণ্ডব ও ধ্বংসযজ্ঞ প্রমাণ করে, ক্ষমতার দাপটে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি দখলের মানসিকতা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আবাসন প্রকল্পের জমির বিরোধ মীমাংসার মাধ্যম যে কোনোভাবেই হাতুড়ি-বুলডোজার আর ভাঙচুর হতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য। কেবল এই দুটি বড় ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়, ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিংয়ের বাড়ি দখলের চেষ্টাও আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। দেখেছি জাসদের কার্যালয়ে যুবদলের হামলায় পুলিশকে সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মবসন্ত্রাসকে রাষ্ট্রসম্মত করতে। সেখান থেকে সেদিন শ তিনেক মানুষকে গণআটকের ঘটনা ঘটেছিল। দেশজুড়ে প্রতিদিনই ছোটবড় এমন অসংখ্য অঘটন ঘটছে যা সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণার মাঠে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে বিএনপির অতীত শাসনের দুর্নীতির কথা প্রচারে এনেছিল, সেই পুরোনো স্মৃতির পুনরাবৃত্তি এখন বিএনপি নিজেরাই ঘটিয়ে চলেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে নিজেদের সুসংগঠিত, সৎ ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে জামায়াত জোর প্রচারণা চালিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে বিএনপি আবারও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বের সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করবে। সাবেক মিত্র বিএনপিকে কোণঠাসা করতে জামায়াত ও তাদের জোট সঙ্গীরা ভোটারদের সামনে সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো নতুন মোড়কে পুরোনো ‘ফ্যাসিবাদ ও বেপরোয়া নৈরাজ্যকে’ আবার আমন্ত্রণ জানানো। নির্বাচনের মাঠে জামায়াত কঠোর পরিশ্রম করে যে সব কথা দিয়ে ভোটারদের মন ভোলাতে পারেনি, ক্ষমতায় এসে সরকারি এই দলটি যেন নিজেরাই জামায়াতের সেই দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিএনপি নিজ হাতে নিজের কপালে ‘দখলদার ও চাঁদাবাজের’ স্থায়ী তিলক এঁকে দিতে বদ্ধপরিকর। সরকার যদি এখনই এই নৈরাজ্য থামাতে না পারে, তবে অচিরেই বিপদে পড়বে।
শাহেদ কায়েস: কবি ও মানবাধিকার কর্মী। ই-মেইল: shahedkayes@gmail.com
[ad_2]
Source link