[ad_1]
অর্থাৎ বিতর্কটি বরাদ্দ বাড়ানো না কমানোর নয়, বরং গবেষণা শাসনব্যবস্থার। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন মানে জবাবদিহিহীনতা নয়, আবার জবাবদিহি মানেই কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণও নয়। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সাফল্য এই দুইয়ের সুষম সমন্বয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বাংলাদেশেও সেই ভারসাম্য গড়ে তোলা সম্ভব। গবেষণা অনুদান প্রদানে আন্তর্জাতিক মানের পিয়ার-রিভিউ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। দেশি-বিদেশি স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। ডিজিটাল আর্থিক ট্র্যাকিং, নিয়মিত অডিট ও গবেষণার ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা পরিচালনার প্রয়োজনীয় স্বাধীনতাও দিতে হবে।
রাষ্ট্রের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্দেহের নয়, সক্ষমতার চোখে দেখা। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণার ওপর। গবেষণাকে প্রশাসনিক ফাইলের মতো পরিচালনা করলে উদ্ভাবন জন্মায় না। উদ্ভাবন জন্মায় স্বাধীন চিন্তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও একাডেমিক আস্থার পরিবেশে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুবই সরল। আমরা কি এমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যারা প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য অনুমতির অপেক্ষায় থাকবে? নাকি এমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যারা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করবে, আন্তর্জাতিক গবেষণায় নেতৃত্ব দেবে এবং দেশের উন্নয়নের পথ দেখাবে?
বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলছে, দ্বিতীয় পথটিই সফলতার পথ।
বাংলাদেশেরও সেই পথেই হাঁটা উচিত। কারণ, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রশাসনিক নির্দেশে গড়ে ওঠে না। গড়ে ওঠে গবেষণার স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও কঠোর জবাবদিহির সমন্বয়ে। গবেষণার অর্থ কোথায় থাকবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো গবেষণার স্বাধীনতা কার হাতে থাকবে।
ড. মো. সাহাবুল হক অধ্যাপক, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
মতামত লেখকের নিজস্ব
[ad_2]
Source link