[ad_1]
শান্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ শহর হ্যালিফ্যাক্স। শহরজুড়ে বড় বড় ম্যাপেলগাছ, ফুল, পাখি, কবুতর আর গাংচিল। শহর ঘুরতে ঘুরতে মনে হয়, বসতির চেয়ে নাগরিক উদ্যানই বেশি। পার্কের বেঞ্চিতে বসে কেউ বই পড়ছেন, কেউ ছবি আঁকছেন, কেউ ল্যাপটপে কাজ করছেন, কেউ নিজের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। শহরজুড়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই, নেই শব্দদূষণ। মহাসাগর, উপসাগর, লেক নানা ধরনের জলাধার ঘিরে থাকা এই শহরে ছোট ছোট কাঠের বাড়ি আর পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনাও কম নয়।
তবে হ্যালিফ্যাক্সের সঙ্গে আমার পরিচয় শুধু এই শান্ত শহরটুকুতে আটকে থাকেনি। এই শহরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে টাইটানিক দুর্ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ২ হাজারের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে প্রথম যাত্রায় রওনা হয় আরএমএস টাইটানিক। চার দিন পর, ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতের ঠিক আগে, উত্তর আটলান্টিকে একটি হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে জাহাজটির। তিন ঘণ্টারও কম সময়ে ডুবে যায় টাইটানিক। প্রাণ হারান প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। বেঁচে যাওয়া মানুষদের পরে কার্পাথিয়া জাহাজ উদ্ধার করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ উদ্ধারে হ্যালিফ্যাক্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনাস্থলের তুলনামূলক কাছাকাছি বড় বন্দর, রেল ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগের সুবিধা থাকায় উদ্ধার করা মৃতদেহগুলো এখানে আনা হয়। হোয়াইট স্টার লাইন চারটি কানাডীয় জাহাজ নিয়োগ করে মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য। এর মধ্যে হ্যালিফ্যাক্স থেকে রওনা হওয়া সিএস ম্যাকে-বেনেট ছিল প্রথম জাহাজ।
চারটি জাহাজ মিলে মোট ৩২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁদের অনেককে সমুদ্রেই সমাহিত করা হয়। বাকিদের হ্যালিফ্যাক্সে নিয়ে আসা হয়। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছিল সঙ্গে পাওয়া পোশাক, গয়না, চিঠি ও অন্যান্য জিনিসের মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনকে হ্যালিফ্যাক্সের তিনটি সমাধিক্ষেত্র ফেয়ারভিউ লন, মাউন্ট অলিভেট ও ব্যারন হির্শে সমাহিত করা হয়।
এই তিন সমাধিক্ষেত্র ঘুরে দেখার পর মনে হয়েছিল, হ্যালিফ্যাক্সে টাইটানিকের স্মৃতি বোধ হয় এতটুকুই। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।
সমাধিস্থলগুলো দেখার কয়েক দিন পর গেলাম শহরের মেরিটাইম মিউজিয়াম অব আটলান্টিকে। এখানেই টাইটানিকের সঙ্গে হ্যালিফ্যাক্সের সম্পর্কের আরেকটি বড় অধ্যায় অপেক্ষা করছিল।
জাদুঘরের স্থায়ী প্রদর্শনীর নাম ‘টাইটানিক: দ্য আনসিঙ্কেবল শিপ অ্যান্ড হ্যালিফ্যাক্স’। টাইটানিক কীভাবে তৈরি হয়েছিল, কীভাবে ডুবেছিল এবং দুর্ঘটনার পর হ্যালিফ্যাক্স কী ভূমিকা রেখেছিল এসবের পাশাপাশি এখানে রাখা হয়েছে জাহাজটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নানা নিদর্শন। প্রদর্শনীতে রয়েছে ৫০টির বেশি বস্তু, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও নথি।
গ্যালারিতে ঢুকেই মনে হলো, এত দিন টাইটানিককে যেভাবে বইয়ের পাতা, ছবি আর সিনেমার পর্দায় দেখেছি, এবার যেন তার অনেকটা কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছি।
[ad_2]
Source link