[ad_1]
বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং মিয়ানমারের দুই নৌবন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ-যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মো।
বুধবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চিটাগাং চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। পরে রাতে চেম্বারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশের সাথে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গন ও সীথওয়ে নৌবন্দরের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে পুনরায় নৌ-যোগাযোগ চালুর ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করছে।
“মিয়ামারের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে চীন-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর নিয়ে যে আলোচনা করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।”
তিনি বলেন, “মিয়ানমারে রাশিয়ার সহযোগিতায় একটি এলএনজি হাব গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে মিয়ানমার সরকার। যেহেতু বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট রয়েছে তাই উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হলে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে সহজে এলএনজিসহ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।
“দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার টু সরকার এবং ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ স্থাপনের বিকল্প নেই।”
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চাল, আদা, রাবার, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি এবং বাংলাদেশ থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস, রাসায়নিক ও পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য পণ্য মিয়ানমারের আমদানি করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
এছাড়া ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সভায় চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “মিয়ানমার প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি দেশ। তাই সার্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।
“বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রামের প্রতিবেশী হল মিয়ানমার। তাই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কোন্নয়নে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, সড়ক যোগাযোগ এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর কোনো বিকল্প নেই।”
চট্টগ্রাম এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ও বিনিয়োগ হাবে পরিণত হতে পারে মন্তব্য করে চেম্বার সভাপতি বলেন, “ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমান বন্দরও পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম এয়ার এভিয়েশন হাব হতে পারে। এছাড়া সরকারও চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে নিয়ে আলাদা মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
“এটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনসহ অন্যান্য অঞ্চলের ফ্লাইট কানেক্টিভিটি জোরদার হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকসহ বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।”
অন্যদের মধ্যে চিটাগাং চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, প্রাক্তন সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, প্রাক্তন পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব, মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সেলর হতেত মিয়াত লুইন, মিয়ানমারের অনারারি কনসাল জেনারেল এ এইচ এম হাকিম আলী, চেম্বার পরিচালক আমান উল্লা আল ছগির, মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর পরিচালক এমদাদুল ইসলাম সভায় বক্তব্য দেন।
[ad_2]
Source link