[ad_1]
সোনা, রুপা ও প্রধান রূপান্তরযোগ্য বিদেশি মুদ্রার সমপরিমাণ রিজার্ভের সমর্থন ছাড়া কাগুজে মুদ্রা ছাপানো বন্ধ এবং এক হাজার টাকার নোটের বৈধতা বাতিলের দাবি জানিয়ে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
মঙ্গলবার আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জিইপি ও ই-মেইলে এই নোটিস পাঠান।
সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের বরাত দিয়ে নোটিসে বলা হয়, নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যে সংবিধান ও আইন মানা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসেবা করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষা করা রয়েছে।
নোটিসদাতা আইনজীবী মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দেশের মানুষের ‘ক্রয়ক্ষমতা, জনসম্পদ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য’ তিনি এই নোটিস দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়া গেলে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করবেন তিনি।
নোটিসে বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বারবার ‘আনব্যাকড ফিয়াট মানি’ বা কোনো বাস্তব সম্পদভিত্তিক সমর্থন ছাড়া কৃত্রিমভাবে মুদ্রা সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর বিষয় উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ এবং বাংলাদেশ কয়েনেজ অর্ডার, ১৯৭২-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা-সংক্রান্ত ক্ষমতার কথা তুলে ধরে নোটিসে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ক্ষমতা ‘সীমাহীন নয়’।
সোনা, রুপা ও মার্কিন ডলার, ইউরো ও চীনা ইউয়ানের মত উচ্চমানের রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার মত বাস্তব সম্পদের মাধ্যমে মুদ্রার সমর্থন থাকা প্রয়োজন বলে নোটিসে দাবি করা হয়েছে।
এক হাজার টাকার নোট সম্পর্কে নোটিসে বলা হয়, সাধারণ নাগরিক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে এ নোটের প্রয়োজনীয়তা খুবই সীমিত।
নোটিসদাতার দাবি, এই নোট মূলত ‘দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ ও অপ্রদর্শিত অর্থ সংরক্ষণ বা গোপন রাখার কাজে’ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে ‘কর ফাঁকি ও ছায়া অর্থনীতির বিস্তার’ ঘটছে।
নোটিসে উচ্চ মূল্যমানের নোট বাতিল বা প্রত্যাহারকে দুর্নীতি ও অপ্রদর্শিত অর্থের বিরুদ্ধে একটি প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যমানের নোট প্রত্যাহার করলে অবৈধ অর্থের মজুত ও দুর্নীতির নেটওয়ার্কে প্রভাব পড়ে এবং লেনদেনকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশে এক হাজার টাকার নোটের অব্যাহত ছাপানো ও প্রচলন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করছে বলেও নোটিসে দাবি করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, উৎপাদনশীল প্রবৃদ্ধি বা পর্যাপ্ত রিজার্ভ সমর্থন ছাড়া কাগুজে মুদ্রার কৃত্রিম সরবরাহ বাড়ানো মুদ্রার প্রকৃত মূল্য ও ক্রয়ক্ষমতা নষ্ট করে।
এ প্রসঙ্গে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ বা অর্থের পরিমাণ তত্ত্বের কথা তুলে ধরে জার্মানির ওয়েইমার প্রজাতন্ত্র, জিম্বাবুয়ে ও ভেনেজুয়েলার উদাহরণ নোটিসে আনা হয়েছে।
সেখানে দাবি করা হয়, এ ধরনের ‘আনব্যাকড’ অর্থ সম্প্রসারণ শেষ পর্যন্ত উচ্চ মূল্যস্ফীতি বা হাইপারইনফ্লেশনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
নোটিসে বলা হয়, হাইপারইনফ্লেশনের ফলে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ খাদ্য, প্রয়োজনীয় পণ্য ও জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এ বিষয়টি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবনের অধিকারের বিষয়টিও নোটিসে মনে করিয়ে দেওয়া হয়।
[ad_2]
Source link