
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি এক অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর সাথে প্রযুক্তিগত আমূল পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার কর্মসংস্থানের প্রথাগত ধরনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি সংকুচিত হয়েছে চাকরির বাজার। ফলে তরুণ সমাজের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেবল চাকরির আশায় বসে থাকা, নাকি নিজেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা? এই বাস্তবতায় উদ্যোক্তা হওয়া এখন আর কেবল বিকল্প নয়, বরং সময়ের এক অনিবার্য দাবি।
শিক্ষিত বেকারত্বের ভয়াবহতা
বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্ব এখন আর কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই জাতীয় অর্থনীতি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬.২ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ৮.৮৫ লাখই বিশ্ববিদ্যালয়-স্নাতক। অর্থাৎ মোট বেকারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চশিক্ষিত। আরও উদ্বেগজনক হলো, বিশ্ববিদ্যালয়-স্নাতকদের বেকারত্বের হার ১৩.৫৪ শতাংশ, যেখানে জাতীয় বেকারত্বের হার মাত্র ৩.৬৬ শতাংশ। এই চিত্র উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে গভীর অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়।