[ad_1]
শুধু অর্থ থাকলেই একটি বিশ্বমানের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার তৈরি করতে হলে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা থাকাই বাঞ্ছনীয়। প্রয়োজন এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো, যেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে প্রতিষ্ঠানটি মুক্ত থাকবে এবং নিয়োগ-পদোন্নতি হবে সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক। হারনাকের সেই ‘নীতি’ ছিল সেরা বিজ্ঞানীদের স্বাধীনতা দিয়ে গবেষণায় সহায়তা করা আজও বিশ্বের প্রতিটি সফল গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তবে মনে রাখতে হবে, এ দেশের রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি আমাদের ধ্বংস করছে, তবে এসব লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বাইরে সম্পূর্ণ একাডেমিক স্বাধীনতার আঁতুড়ঘর হিসেবে এমন ইনস্টিটিউট হতে হবে, যার গবেষকদের বেতনকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তাবলয় থাকবে স্বতন্ত্র।
প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বায়ত্তশাসিত অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে বছরভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের অনিশ্চয়তা থাকবে না এবং রাজনৈতিক প্রভাব ন্যূনতম থাকবে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগ ও পদোন্নতি হতে হবে সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক, জ্যেষ্ঠতা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, তথ্যভান্ডার ও প্রকাশনা-অ্যাকসেস নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গবেষকেরা বৈশ্বিক মানে কাজ করতে পারেন। চতুর্থত, প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দেশে ফেরার পথ সহজ করতে হবে। পঞ্চমত, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সংযোগ জোরদার করতে হবে, যাতে গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য হয়।
এসব করার সদিচ্ছা যদি সরকারের কখনো তৈরি হয়, তবে এ দেশে নতুন নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হবে, বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
ড. নাদিম মাহমুদ গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
মতামত লেখকের নিজস্ব
[ad_2]
Source link