[ad_1]
দেশে গত আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মহদেহ উদ্ধারের তথ্য দিয়ে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন শালিশ কেন্দ্র (আসক)।
কুমিল্লায় নিখোঁজ থাকা ১৩ বছর বয়সি স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের ঘটনার কথা বর্ণনা করে আসক রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যা, নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার ঘটনা শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
“২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অগাস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ২৫৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য আসক এর পর্যবেক্ষণে এসেছে।”
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য নিয়ে মূলত পরিসংখ্যান তৈরি করে আসক।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ। যদিও নিখোঁজের তথ্য পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ না হওয়ায় এই পরিসংখ্যান নিয়েও বিভ্রান্তির সম্ভাবনার কথাও বলছে পুলিশ।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব মন্তব্য আসক বলছে, “সংবিধান, জাতীয় শিশু নীতি, শিশু আইন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেয় আসক, যাতে নিখোঁজ, উদ্ধার এবং এখনও নিখোঁজ শিশুদের প্রকৃত চিত্র জানা যায় এবং ঝুঁকির ধরন চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো শিশুর মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটিকে শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন আসকের নির্বাহী পরিচালক শাহীনুর রহমান।
তিনি বলেন, “শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হল, তাকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, কোনো অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না এবং অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আওতায় আনতে হবে।”
আসক মনে করে, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
[ad_2]
Source link