[ad_1]
এখন গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কীভাবে শনাক্ত করব? গর্ভকালে যদি খালি পেটে ৫.১–এর ওপরে যায় এবং ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে ৮.৫–এর ওপরে যায়, তাহলে আমরা বলি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।
এখন এ ধরনের ডায়াবেটিসের মাত্রা নির্ণয় করা ও কোন টার্গেটে রাখতে হবে, সেটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে। দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, চিকিৎসকদের কাছেও অনেক সময় এটা খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। অথচ খুব সামান্য ব্লাড সুগার বৃদ্ধি, কম সময়ের জন্য হলেও গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করতে পারে।
গর্ভকালে যদি সঠিক মাত্রায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে মায়ের গর্ভপাত হতে পারে, বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম হতে পারে, সন্তান গর্ভে মারা যেতে পারে, সময়ের আগে সন্তানের জন্ম হতে পারে। মায়ের উচ্চ রক্তচাপ ও খিঁচুনি হতে পারে। একলাম্পশিয়া হয়ে মা মারাও যেতে পারেন। প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েও মারা যেতে পারেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও একলাম্পশিয়া বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। অন্যদিকে শিশুমৃত্যুর কারণের মধ্যে আছে অপরিণত হয়ে জন্ম ও কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ। এই দুটোর পেছনেও অনেক সময় মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দায়ী হয়ে থাকে।
এগুলোর কিছুই যদি তখন না-ও হয়, তবু কী হতে পারে জানেন? মায়ের গর্ভের সন্তানটি হয়তো ওই নয় মাসে কোনো জটিলতায় পড়ল না। কিন্তু সে গর্ভ থেকেই এই ঝুঁকিতে পড়ে গেল যে সে অল্প বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে। অর্থাৎ গর্ভকালে যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে একটি নতুন ডায়াবেটিক নাগরিক তৈরি হচ্ছে। আমরা যদি মাতৃমৃত্যুহার কমাতে চাই, সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে চাই এবং মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, তাহলে গর্ভকালে ডায়াবেটিসের সঠিক নির্ণয় ও সঠিক মাত্রা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
[ad_2]
Source link