তামাক নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলো তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর বাড়িয়ে এর সহজলভ্যতা এবং ব্যবহার কমিয়ে আনা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। দেশের বিশাল রাজস্ব ঘাটতি পূরণ, রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী অর্থবছর থেকে সবধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় ‘ইকোনোমিক্স অব ট্যোবাকো ট্যাক্সেশন: পাবলিক হেলথ পার্সপেকটিভ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক। মিটিং সফটওয়্যার জুমে এ প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রথম দিনে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব কর্মকর্তা এসকে তরিকুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম আব্দুল্লাহ।
প্রশিক্ষণে তারা বলেন, সারাবিশ্বে অ্যাডভেলরেম করারোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপ ও কিছু ক্ষেত্রে মিক্স পদ্ধতিতে করারোপ করা হচ্ছে। এতে সরকার লাভবান হচ্ছে, পাশাপাশি তামাক ব্যবহারও কমে আসছে। বাংলাদেশ তামাকজাত দ্রব্যে কর হার বর্তমানে অনেক বেশি হলেও এই পদ্ধতি কার্যকর না হওয়ায় তামাকসেবী কমছে না। ফলে রাজস্ব বৃদ্ধি ও কর ফাঁকি বন্ধে দ্রুত সুনির্দিষ্ট করারোপ এবং কর ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশন করতে হবে।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের প্ল্যানিং এডিটর ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ড. সৈয়দ মাহফুজুল হক।
তারা বলেন, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে ২০২১-২২ অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্য থেকে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ৩০ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। যা প্রায় সাড়ে ১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ আইন পাস, সংশোধনসহ তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রতিটি উদ্যোগে তামাক কোম্পানি রাজস্ব হারানোর ভয় দেখায়। চোরাচালানের বিভিন্ন মিথ প্রচার করে, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। সরকারের আরও রাজস্ব আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট করারোপের কোনো বিকল্প নেই।
তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের শেষ দিনে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক ও অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল হিল্লোল।
তারা বলেন, তামাক গ্রহণের কারণে বর্তমানে দেশে ৪০ বছরের কাছাকাছি তরুণদের হার্ট অ্যাটাকের হার বেড়ে গেছে। পাশাপাশি তামাকের বিভিন্ন রাসায়নিকের জন্য চুল, ব্রেন, মস্তিষ্ক, চোখ, নাক, দাঁত, রক্ত, হাড় ও ত্বকসহ শরীরের বিভিন্ন অর্গান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর হওয়া জরুরি।
এই প্রশিক্ষণে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী, উন্নয়ন কর্মী, তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় তারা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইএইচটি/এমএমকে
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।