[ad_1]
গবেষণার ক্ষেত্রেও মারজানার কাজ ছিল ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশের পোলট্রিতে প্রথমবারের মতো তিনি শনাক্ত করেন চিকেন ইনফেকশাস অ্যানিমিয়া ভাইরাসের (সিআইভিএ) ই জিনোটাইপ থ্রিবি স্ট্রেইন। ভাইরোলজি গবেষণায় এটি একটি বড় সংযোজন। গর্ভাবস্থায় এই কাজ চালিয়ে যাওয়া ছিল বেশ কঠিন। মারজানার ভাষ্য, ‘গবেষণাই আমাকে ধৈর্য আর অধ্যবসায় শিখিয়েছে। সম্ভবত এই মানসিকতাই আমাকে ফেলোশিপ নির্বাচনে আলাদা করে তুলেছে।’
গবেষণায় সাফল্য এলেও ভাগ্য সব সময় সহায় হয়নি। জাপানের সাকুরা সায়েন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে তাঁর ল্যাব ও ল্যাবের গবেষণা নির্বাচিত হয়েছিল, কিন্তু তখনো তিনি আইসিইউতে। ফলে অংশ নিতে পারেননি। তবে সেটি তাঁর আত্মবিশ্বাস ভাঙতে পারেনি। বরং তিনি সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন, ‘প্রতিটি না পাওয়াই আদতে পরবর্তী সাফল্যের প্রস্তুতি।’
অবশেষে আসে জীবনের সেই মোড় ঘোরানো সকাল। জাতিসংঘের ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ ২০২৫’-এর ইমেইল, ‘কংগ্র্যাচুলেশন! ইউ হ্যাভ বিন সিলেক্টেড...।’ দেখে শুরুতে মারজানার বিশ্বাসই হচ্ছিল না—‘বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্য থেকে মাত্র ১০ জন তরুণী গবেষককে নির্বাচিত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আমি একজন!’
এই ফেলোশিপকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন মারজানা। ডিসেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বর্তমানে মারজানার গবেষণার বিষয় বায়োসিকিউরিটি। এটির লক্ষ্য হলো জীববিজ্ঞানের জ্ঞানকে মানবকল্যাণের পথে ব্যবহার, জীবাণু নিয়ন্ত্রণ ও ল্যাব সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি চান, বাংলাদেশে তরুণ গবেষক, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হোক। তাঁর মতে, ‘মেয়েরা গবেষণাসহ সব ক্ষেত্রে সমানভাবে সফল হতে পারে। শুধু দরকার বিশ্বাস, অধ্যবসায় আর সঠিক দিকনির্দেশনা।’
মারজানা আজ ৯টি গবেষণাপত্রের লেখক; একজন মা, একজন গবেষক। মেয়ে আনাইজার মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন শক্তি পান তিনি। তাঁর চাওয়া, আনাইজা একদিন গর্ব করে বলুক, ‘আমার মা কখনো হাল ছাড়েনি।’
[ad_2]
Source link