[ad_1]
সংরক্ষণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কৃত্রিমভাবে প্রজননকেন্দ্রে বড় করা কুমিরদের যখন বনে ছাড়া হয়, তখন তারা যদি আবার তাদের আগের খাঁচা বা প্রজননকেন্দ্রের দিকে ফিরে আসার চেষ্টা করে, তবে পুরো প্রজেক্টটি ব্যর্থ হয়ে যায়। এত দিন ছোট বা সদ্যোজাত ছানা দিয়ে এই সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হতো, কিন্তু বন্য পরিবেশে তাদের বেঁচে থাকার হার থাকে অত্যন্ত কম এবং পূর্ণবয়স্ক হতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। তাই পূর্ণবয়স্ক কুমিরদের বন্য পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা পরিমাপ করা বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা সুন্দরবনের মোট ৫টি পূর্ণবয়স্ক লোনাপানির কুমিরের শরীরে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ডিভাইস বা জিপিএস ট্যাগ যুক্ত করেছিলেন। এই ৫টি কুমিরের মধ্যে ছিল ৩টি খাঁচায় বড় হওয়া নারী কুমির, যারা দীর্ঘ ৮ থেকে ২২ বছর কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রে কাটিয়েছে। আর ১টি স্থানীয় বুনো কুমির, যাকে সুন্দরবনের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ধরে আবার সেখানেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ১টি বুনো পুরুষ কুমির ছিল, যার নাম জংড়া। এই কুমিরকে তার মূল আবাসস্থল থেকে অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা কয়েক মাস ধরে এই কুমিরগুলোর প্রতিটি মুভমেন্ট বা চলাফেরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
গবেষণার সবচেয়ে ইতিবাচক দিকটি নিয়ে সহযোগী অধ্যাপক রু সোমাভিরা বলেন, সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, খাঁচায় বড় হওয়া ৩টি নারী কুমির বন্য পরিবেশে মুক্ত হওয়ার পর তাদের পুরোনো প্রজননকেন্দ্রে ফিরে যাওয়ার বিন্দুমাত্র কোনো চেষ্টা করেনি। তারা সুন্দরবনের ছোট ও সুনির্দিষ্ট এলাকায় নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এবং সেখানকার স্থানীয় বুনো কুমিরের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। এটি স্পষ্ট সংকেত দেয় যে তারা কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুন বন্য পরিবেশের সঙ্গে অনায়াসে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। তবে কৃত্রিম পরিবেশে বড় হওয়া কুমিরদের ক্ষেত্রে ফলাফল চমৎকার হলেও, সুন্দরবনের আসল বুনো কুমির জংড়ার ক্ষেত্রে ফলাফল বিজ্ঞানীদের একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। জংড়াকে তার চেনা ঘর থেকে প্রায় ১৩২ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে সুন্দরবনের অন্য অংশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
[ad_2]
Source link