[ad_1]
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তার মন্ত্রণালয়ের অধীনেই সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম চলমান। তার মন্ত্রণালয়ের সফলতা এবং সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে দুই মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ফ্যামিলি কার্ড, সামাজিক সুরক্ষা, ভাতা বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুর সুরক্ষায় নেওয়া নানা উদ্যোগ নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা।
জাগো নিউজ: আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড। ১৮০ দিনে এই প্রকল্পের অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: বড় প্রজেক্ট হলেই তো ফল বড় হয় না। সেটা নির্ভর করে আপনি কতটা সফল। ১৮০ দিনের কর্মসূচি, এখন আমি যদি বলি যে আমরা সফল হয়েছি, তাহলে নিজের ঢোল নিজে বাজানো হবে। এটা আপনারা যারা আছেন, দেশের মানুষ যারা আছেন, ওনারাও বলবেন আমরা কতটা সফল।
তিনি বলেন, আমরা ১৭ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব নিয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৮ তারিখ মিটিং করেছেন, ১৯ তারিখ কেবিনেট কমিটি হয়েছে, ২৪ তারিখ আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছি, খসড়া নীতিমালা করেছি, পাইলটিংয়ের জন্য স্থান নির্বাচন করেছি।
১০ তারিখ, অর্থাৎ ১০ মার্চ, আমরা প্রথম আপনারা দেখেছেন যে ঢাকা শহরের কড়াইল বস্তি ও সাততলা, তারপর ঢাকা-১৫ আসনসহ বাংলাদেশের ১৫টি অঞ্চলে বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক অবস্থা চিন্তাভাবনা করে সেখানে একটা করে ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছিলাম।
কাজেই এই যে শুরু, তারপরও কিন্তু আমরা পাইলটিং করেছি। ১৬ আগস্ট, অর্থাৎ ১৭ আগস্টের আগের দিন কিশোরগঞ্জে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইনশাআল্লাহ আমাদের যে এই বছরের টার্গেট ৪১ লাখ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইনশাআল্লাহ সে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার একটা ওয়ার্ডের মধ্যে।
সেই কর্মসূচি কুমিল্লার যে স্টেডিয়াম আছে, সেই স্টেডিয়ামে ইনশাআল্লাহ বিকেল সাড়ে ৩টায় উনি (প্রধানমন্ত্রী) নিজে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা, সেটা জিটুপি (সরকার থেকে সুবিধাভোগী) পদ্ধতিতে বিতরণ করা হবে, কার্ড বিতরণ করবেন।
কাজেই এটা হচ্ছে একটা দিক। আমাদের একটা কর্মসূচির যদি সফলতা চিন্তা করেন, সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে এই ডাটা কালেকশন নির্ভুলভাবে করা এবং আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের এখানে এরর রেট (ত্রুটি-বিচ্যুতি) সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ। কাজেই এটা একটা হিউম্যান এরর হিসেবে সত্যিকার অর্থে কোনো সায়েন্টিফিক স্টাডিতে কোনো একটি এরর বলা যাবে না। কাজেই আমরা খুবই আশাবাদী যে আমাদের যে কর্মসূচি যেভাবে চলছে, এটাতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।
জাগো নিউজ: ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের উল্লেখযোগ্য অর্জন কী?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: সারাদেশে মনে করেন, ১৮০ দিনের মধ্যে সরকারের প্রোগ্রামের মধ্যে আমি সমাজকল্যাণের কথা যদি বলি বা মহিলা ও শিশু, যারা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, তাদের জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। তাদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

‘যেটার বছরে ৩০০ কোটি টাকা বাজেট ছিল, সেটা সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং অলরেডি আমরা জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে শুরু করেছি। সো, দিস ইজ ওয়ান অ্যাচিভমেন্ট।’
জাগো নিউজ: পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: যারা পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠী, পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠী সব জায়গায় আছে। সমতলে আছে, যেমন সাঁওতাল আছে, ওঁরাও আছে, গারো আছে। আবার মনে করেন পাহাড়ি অঞ্চলে আছে।
এদের মাঝে এদের বাচ্চারা যারা পড়াশোনা করে, এদের যারা একটু অবস্থা..., অন্তত ভালো নয়, অর্থের জন্য পড়াশোনা করতে পারছে না, তাদের যেমন বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা অ্যাকর্ডিং টু ক্লাস, যে যেই ক্লাসে পড়ে তার ওপর দেওয়া হচ্ছে।
জাগো নিউজ: প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা ও সুবিধার ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন এসেছে?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: মনে করেন ডিজঅ্যাবল, যে প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী একটা বিরাট সংখ্যক মানুষ আমাদের দেশের পপুলেশনে, প্রায় নিয়ারলি আমাদের স্ট্যাটিস্টিকস আছে ৪০ লাখ, মানে ৪ মিলিয়ন। আর আমাদের বিবিএস স্ট্যাটিস্টিকসে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন।
‘এবং এই মানুষদের প্রত্যেককে ভাতা আগে যা ছিল তা থেকে বাড়ানো হয়েছে এবং এটা গত জানুয়ারি থেকে জুলাই থেকে দে আর গেটিং ইট (পাচ্ছে)।’
মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্কুল, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, তাদের জন্য পুনর্বাসনের জন্য আমরা প্রতিটা জেলায় এবং প্রতিটা উপজেলায় আগে ছিল ১০৩টা মাত্র সেন্টার। এখন আমাদের প্রতিটি উপজেলায় এবং আমাদের মোবাইল ভেহিকলের মাধ্যমে তাদের সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি।
জাগো নিউজ: দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: হাসপাতালে যে ভর্তিকৃত রোগী, অনেক রোগী পয়সার জন্য চিকিৎসা করতে পারে না, তাদের জন্য কিন্তু আমাদের সমাজসেবার একটা কর্মসূচি আছে, সেটার মাধ্যমে বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল, তারপর বার্ন হসপিটাল এসব জায়গায়ই আমরা কিন্তু আপনার আর্থিক সহায়তা করছি এবং তাদের মাঝে চিকিৎসার জন্য যে টাকা দেওয়া দরকার সেগুলো দেওয়া হচ্ছে।
জাগো নিউজ: ভাতার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই ১৮০ দিনের মধ্যেই ভাতা বাড়ানো হয়েছে। আপনি দুস্থ ভাতা বলেন, সেখানে ভাতা বাড়ানো হয়েছে। বিধবা ভাতা বলেন, সেখানে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
‘তারপর মনে করেন প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতার পরিমাণ এবং সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ বছর আমরা ৪০ লাখকে, যত প্রতিবন্ধী আসবে, প্রতিবন্ধী যত রেজিস্ট্রেশন হবে, সবাই এটার সুবিধাভোগী হবে। এখানে কোনো ডিসক্রিমিনেশনের সুযোগ রাখা হয়নি।’
এবং আমাদের এই প্রোগ্রামটা আরও যেন স্কেলআপ করতে পারি, সেটার জন্য আমরা আমাদের প্রোগ্রাম নিয়েছি। সেটা হয়তো দেখা যাবে যে আগামী কিছুদিনের মধ্যে একটার পর একটা বাস্তবায়ন হবে।
জাগো নিউজ: মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কী ধরনের কাজ করছেন?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: মহিলা ও শিশুদের ব্যাপারে আমরা আগে যেমন নারীদের বিরুদ্ধে যে ভায়োলেন্স, মানে ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন, ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট চিলড্রেন, সেটার জন্য আমরা এখন কিন্তু ওই ভায়োলেন্সের সঙ্গে সঙ্গে আমরা কোনো জায়গায় যদি এরকম ঘটনা ঘটে, সেটার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আমরা ওই পরিবারের টেক কেয়ার করছি।
যেমন- চিকিৎসক চিকিৎসা দিচ্ছে। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কে দোষী, কে নির্দোষ সেটার জন্য আইন আদালতের ব্যবস্থা করছে।
জাগো নিউজ: নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা কমেছে কি না, ১৮০ দিনের অভিজ্ঞতায় আপনার মূল্যায়ন কী?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: ভায়োলেন্সের পরিমাণ কমেছে বলে আমি বলতে রাজি না। তবে রিপোর্টিং যেভাবে হচ্ছে, মানে আগে অনেক ঘটনা কিন্তু সারফেস আসতো না। এখন যেহেতু মানে আপনার তথ্যপ্রবাহ অবাধ আছে, কাজেই এখন কিন্তু আপনারা সব খবর বলতেও পারেন, লিখতেও পারেন।

কাজেই সেজন্য ভায়োলেন্সের পরিমাণ...। তবে আমি যা দেখছি যে, ভায়োলেন্সের পরিমাণ গত কিছুদিন ধরে আমার কাছে মনে হয় যে আমরা তো সবাই ধরেন গ্রামে যখন যাচ্ছি, এলাকায় যাচ্ছি, আমরা কিন্তু অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্সের অ্যাগেইনস্টে অল দ্য টাইম উই আর টকিং। মানে আমরা সবাইকে উৎসাহিত বা উজ্জীবিত করছি।
‘কারণ জনমত ছাড়া এটা আপনি ইচ্ছা করলে আইন দিয়ে যদি বন্ধ করেন, তাহলে নারী নির্যাতন তো কঠিন আইন আছে, তারপরও কিন্তু এরকম ঘটনা ঘটছে। কাজেই মানুষকে উজ্জীবিত করা, মানুষকে উৎসাহিত করা, মানুষকে এসব অন্যায় কাজ যেন না করে, প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা গ্রো করা এবং তাদের ইনভলভ করা। এটার জন্য উই আর ওয়ার্কিং অন ইট।’
জাগো নিউজ: নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: আমরা মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য দেশের প্রত্যেকটি জেলা, এমনকি উপজেলা পর্যায়েও অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্ধারিত কোর্স কারিকুলাম অনুযায়ী তাদের প্রশিক্ষিত করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় টুলস দিয়ে তাদের পুনর্বাসিত করা অথবা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সে অনুযায়ী আমাদের এই কর্মসূচি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
জাগো নিউজ: পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠী ও চা-শ্রমিকদের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: চা-শ্রমিকদের ব্যাপারে আপনি দেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলে এবং মৌলভীবাজারে গিয়েছিলেন। তাদের জন্য এবং পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জন্য, তাদের টেনে সামনের দিকে আনার জন্য আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত আছে।
জাগো নিউজ: শিশুদের বিকাশে কোনো পদক্ষেপ আসছে কি না?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: শিশু একাডেমিকে আরও সুন্দরভাবে শিশুদের বিকাশের জন্য, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের বিকাশের জন্য, স্পোর্টসের পাশাপাশি কালচারালি অ্যান্ড এনলাইটেন্ড করার জন্য শিশু একাডেমি কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা শহরে শিশু একাডেমিকে আরও অ্যাকটিভ করা হয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ধরনের কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজের মধ্যে শিশুদের ইনভলভমেন্ট কিন্তু আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।
জাগো নিউজ: প্রধানমন্ত্রী আপনাদের ১৮০ দিনের একটি সময়সীমা দিয়েছেন। আপনার দুই মন্ত্রণালয় এবং একটি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প সরকারের খুবই বড় অগ্রাধিকার। এই ১৮০ দিনের কাজের জন্য আপনি নিজেকে কত নম্বর দেবেন?
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: শোনেন, আমি সারাজীবন পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়া মানুষ, বুঝতে পারছেন? কাজেই আমার জীবনে কোনোদিন সেকেন্ড হইনি। কাজেই আমি এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করছি।
‘এখন নিজের নাম্বার তো আর নিজে দিতে পারবো না। এই নাম্বার দেশের মানুষ দেবেন, তারা বিচার করবেন। আর বর্তমান সরকারে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ওনারা দেবেন। এ বিষয়ে আমি আর মন্তব্য করতে চাই না।’
আরএমএম/ইএ
[ad_2]
Source link